
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা : নৈতিক স্খলনজনিত অভিযোগে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কৃত সাতক্ষীরা-৪ আসনের বিতর্কিত সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের ভবিষ্যৎ এখন ঝুলছে জাতীয় সংসদের সিদ্ধান্তের ওপর। দল থেকে তিনি বাদ পড়লেও সংসদ সদস্য হিসেবে তিনি বহাল থাকবেন কি না—সে বিষয়ে আগ বাড়িয়ে কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না নির্বাচন কমিশন (ইসি)। কমিশন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, জাতীয় সংসদ বা স্পিকারের কার্যালয় থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি তাদের কাছে উপস্থাপন করা হলেই কেবল তারা আইনি প্রক্রিয়ায় পা বাড়াবে।
বৃহস্পতিবার নির্বাচন ভবনে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এ বিষয়ে কমিশনের অবস্থান পরিষ্কার করেন নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ।
কমিশনের পক্ষ থেকে তুলে ধরা মূল বিষয়গুলো:
বাংলাদেশের সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো এমপি নিজ দল থেকে পদত্যাগ করলে বা সংসদে দলের বিরুদ্ধে ভোট দিলে তাঁর সংসদ সদস্যপদ শূন্য হয়। তবে নৈতিক স্খলন বা দলীয় বহিষ্কারের কারণে সংসদ সদস্যপদ থাকবে কি না, তা নিয়ে অতীতেও নানা আইনি বিতর্ক দেখা গেছে।
সাধারণত, রাজনৈতিক দল থেকে কাউকে বহিষ্কার করলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে এমপি পদ বাতিল হয় না। কোনো সদস্যকে অযোগ্য ঘোষণা করতে হলে সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদ এবং সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী আইনের বাধ্যবাধকতা পর্যালোচনা করতে হয়। গাজী নজরুলের ক্ষেত্রেও একই আইনি সমীকরণ কাজ করছে। ফলে জামায়াত তাঁকে দল থেকে ছেঁটে ফেললেও, সংসদীয় সদস্যপদের বিষয়ে চূড়ান্ত নিষ্পত্তির মূল চাবিকাঠি এখন মহামান্য স্পিকারের হাতেই রয়ে গেছে। স্পিকার যদি ইসিতে চিঠি পাঠান, তবেই শুরু হবে আনুষ্ঠানিক শুনানির মহড়া।
এই ওয়েব সাইটের কোন লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ব্যতীত ব্যবহার বেআইনি ।
2023 DailyNews24BD.com