
বিশেষ প্রতিনিধি, ঢাকাঃ ঢাকা দেশের মোট জনসংখ্যার বড় একটি অংশ গ্রামে বাস করলেও সিংহভাগ চিকিৎসক শহরকেন্দ্রিক—স্বাস্থ্য খাতের এই বৈষম্য দূর করতে তরুণ চিকিৎসকদের গ্রামীণ জনপদে সেবার মানসিকতা নিয়ে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ও জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. জুবাইদা রহমান। একই সঙ্গে কেবল চিকিৎসাসেবা নয়, পেশাগত দক্ষতার সঙ্গে মানবিক মূল্যবোধ ও সংস্কৃতিচর্চার সমন্বয় ঘটানোর তাগিদ দেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই, ২০২৬) রাজধানীর হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিকেল কলেজ অডিটোরিয়ামে আয়োজিত ‘বার্ষিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও কৃতিত্বপূর্ণ সাফল্য সম্মাননা-২০২৬’ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠান শেষে তিনি কৃতী শিক্ষার্থীদের মাঝে সম্মাননা স্মারক ও সনদপত্র তুলে দেন।
গ্রামের চিকিৎসাসেবা ও বাস্তবতার সমীকরণ
অনুষ্ঠানে ডা. জুবাইদা রহমান দেশের স্বাস্থ্য খাতের বিভিন্ন সূচক ও সংকট তুলে ধরে বলেন, চিকিৎসাবিজ্ঞানের শিক্ষার্থীরা দেশের সবচেয়ে সম্ভাবনাময় মেধার স্বাক্ষর বহন করে। তবে সেই মেধা তখনই সার্থক হবে, যখন তা সাধারণ মানুষের কাজে আসবে।
তিনি স্বাস্থ্য খাতের কাঠামোগত সংকটসমূহ চিহ্নিত করে বলেন:
শহর ও গ্রামের বৈষম্য: দেশের প্রায় ৭৮ শতাংশ মানুষ গ্রামাঞ্চলে বসবাস করলেও ৭০ থেকে ৭৫ শতাংশ চিকিৎসকই শহরাঞ্চলে অবস্থান করছেন।
চিকিৎসক ও রোগীর অনুপাতে ঘাটতি: বর্তমানে প্রতি এক হাজার মানুষের বিপরীতে গড়ে মাত্র ০.৮৩ জন চিকিৎসক সেবা দিচ্ছেন। ফলে একজন চিকিৎসককে দৈনিক প্রায় ১২০০ থেকে ১৮০০ রোগীর চাপ সামলাতে হয়।
নার্স ও প্রয়োজনীয় জনবলের ঘাটতি: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) নির্ধারিত মানদণ্ডের তুলনায় বাংলাদেশে নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীর সংখ্যা অত্যন্ত অপ্রতুল।
চিকিৎসা খরচের বোঝা: সরকারি স্বাস্থ্যসেবার সীমিত ব্যাপ্তির কারণে সাধারণ মানুষের চিকিৎসা ব্যয় বহুগুণ বেড়ে যায়, যা অনেক পরিবারকে দারিদ্র্যের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, “আমাদের লক্ষ্য এমন এক স্বাস্থ্যব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা, যেখানে প্রতিরোধযোগ্য কোনো রোগের কারণে কোনো গর্ভবতী মা বা নবজাতকের অকালমৃত্যু হবে না এবং চিকিৎসার অভাবে কোনো গ্রামবাসী কষ্ট পাবে না।”
স্বাস্থ্য খাতের প্রেক্ষাপট ও নতুন বিশ্লেষণ
বিশেষজ্ঞদের মতে, উচ্চশিক্ষা বা আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণের জন্য চিকিৎসকদের বিদেশে যাওয়া যেমন জরুরি, তেমনি অর্জিত জ্ঞান নিয়ে দেশের মানুষের সেবায় ফিরে আসা আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তরুণ চিকিৎসকরা যদি শিক্ষাজীবন থেকেই দেশপ্রেম ও মানবিকতার শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ হন, তবে ব্রেন ড্রেন বা মেধা পাচারের হার কমানোর পাশাপাশি দেশের প্রান্তিক এলাকায় মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা সম্ভব।
কঠোর পড়াশোনার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের সাংস্কৃতিক চর্চাকে সাধুবাদ জানিয়ে ডা. জুবাইদা আশা প্রকাশ করেন যে, নতুন প্রজন্মের এই চিকিৎসকরাই ভবিষ্যতের একটি বৈষম্যহীন ও সংবেদনশীল স্বাস্থ্যব্যবস্থা তৈরিতে মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করবেন।
এই ওয়েব সাইটের কোন লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ব্যতীত ব্যবহার বেআইনি ।
2023 DailyNews24BD.com