ঢাকা, ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬: জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবিতা ও রচনার ইংরেজি সংস্করণ ‘কুইন্টেসেন্স অব নজরুল’ নামে একটি গ্রন্থ মঙ্গলবার প্রকাশিত হয়েছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে নজরুলের সৃষ্টিকে আন্তর্জাতিক পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য রাখা হয়েছে।
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইস্লাম ইনস্টিটিউটের মিলনায়তনে দুপুরে এক আলোচনা-সমৃদ্ধ অনুষ্ঠানে গ্রন্থটির আনুষ্ঠানিক উন্মোচন ঘটে। সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়ে বইটির মুখোশ খোলেন। ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক মো. লতিফুল ইসলাম শিবলী অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন।
ফারুকী অনুবাদকার্যে জড়িত সকলকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, নজরুলের লেখা ইংরেজিতে রূপান্তর একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ, যা তাঁকে বিশ্বমঞ্চে প্রতিষ্ঠিত করবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, প্রকাশনার পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো এর প্রচার-বিপণন। অনেক বই দেশের সীমানায় আটকে থাকে; এবার ভাবনা করতে হবে কীভাবে এটি বিদেশী পাঠকদের হাতে তুলে দেওয়া যায়। তিনি ইনস্টিটিউটকে বিশ্বব্যাপী সেমিনার, অনলাইন প্রচার এবং আন্তর্জাতিক বইমেলায় অংশগ্রহণের পরামর্শ দেন।
এছাড়া, তিনি এমন উদ্যোগগুলোকে চলমান রাখার আহ্বান জানান এবং ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থানোত্তর বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক পুনর্জাগরণকে দেশকেন্দ্রিক ও গর্বিত করে তোলার প্রত্যাশা প্রকাশ করেন। নতুন সরকার যাই আসুক, এই যাত্রা অবিচ্ছিন্ন থাকবে বলে তিনি আশাবাদী।
নজরুল গবেষক এবং পুরস্কারপ্রাপ্ত অধ্যাপক ইরশাদ আহমেদ শাহীন মূল আলোচনায় নজরুলের সাহিত্যের দার্শনিক গভীরতা তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, বিদেশী শ্রোতারা নজরুলের কবিতায় বিস্মিত হন এবং এর মানবতাবাদী বার্তাকে স্বীকার করেন। বিশ্ব সাহিত্যে বাংলা ভাষার অবদান বাড়াতে এই গ্রন্থ এক মাইলফলক। (বিশেষ দ্রষ্টব্য: নজরুলের রচনা ইতিমধ্যে ইউনেস্কোর স্বীকৃতি পেয়েছে, এবং এই অনুবাদ বিশ্বের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে নজরুল অধ্যয়নকে ত্বরান্বিত করতে পারে।)
বিশেষ অতিথিরা হিসেবে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মফিদুর রহমান, কবির নাতনি ও ইনস্টিটিউটের ট্রাস্টি চেয়ারম্যান খিলখিল কাজী এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. তাজিন আজিজ চৌধুরী বক্তব্য রাখেন।
অনুষ্ঠানের শেষে সাংস্কৃতিক অংশে ইয়াকুব আলী খান, ড. নাশিদ কামাল, ফেরদৌস আরা এবং সালাউদ্দিন আহমেদ একক গান পরিবেশন করেন। ইনস্টিটিউটের শিল্পীরা দলগত সংগীত উপস্থাপন করেন, এবং নাসিম আহমেদ ও শিমা ইসলাম ইংরেজি আবৃত্তি দেন। এই অনুষ্ঠান নজরুলের উত্তরাধিকারকে নতুনভাবে জাগরূক করেছে।

