২ এপ্রিল, ২০২৫ : ঈদুল ফিতরের ছুটিতে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে লাখো পর্যটকের ঢল নেমেছে। শহর, প্রধান সৈকত ও ইনানী বিচ এলাকার সকল হোটেল, রিসোর্ট ও গেস্টহাউসের কক্ষ প্রায় সম্পূর্ণ বুকড রয়েছে। ঈদের তৃতীয় দিনেও পর্যটকরা সমুদ্রের উত্তাল ঢেউ উপভোগ করছেন, নিরাপত্তায় রয়েছে ট্যুরিস্ট পুলিশ ও প্রশাসনের কঠোর তৎপরতা।
প্রশাসনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা
জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ সালাহ উদ্দিন জানান, পর্যটকদের নিরাপত্তায় সৈকতজুড়ে সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড টাঙানো হয়েছে এবং “ভ্রমণিক” মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে হোটেল বুকিং, যানবাহন সংক্রান্ত তথ্য ও জরুরি সহায়তা পাওয়া যাচ্ছে।

হোটেল ও রিসোর্টে ভরপুর অবস্থা
স্থানীয় হোটেল মালিকদের মতে, ঈদের ছুটিতে ১.৮৭ লাখ পর্যটক ধারণক্ষমতার সকল হোটেলের ৯৮% কক্ষই আগাম বুকিংয়ে পূর্ণ। শনিবার পর্যন্ত এই সমাগম অব্যাহত থাকতে পারে। হোটেল সি প্যালেস-এর মতো বিলাসবহুল স্থাপনাগুলোও কর্পোরেট বুকিংয়ে পূর্ণ।
সমুদ্রে নিরাপত্তা ও গার্ড তৎপরতা
বেসরকারি সংস্থা সি সেফ লাইফ গার্ড-এর প্রশিক্ষিত কর্মীরা পর্যটকদের নিরাপদ গোসল নিশ্চিত করতে নজরদারি করছেন। ভাটার সময় বিপজ্জনক অঞ্চলে যাওয়া পর্যটকদের বাঁশি বাজিয়ে সতর্ক করা হচ্ছে।
মেরিন ড্রাইভ ও ইনানীর দিকে পর্যটকের ভিড়
পর্যটকরা সুগন্ধা ও লাবনী বিচ থেকে ইজিবাইক, অটোরিকশা বা জিপে করে ৮০ কিলোমিটার দীর্ঘ মেরিন ড্রাইভ পাড়ি দিচ্ছেন ইনানী বিচ, হিমছড়ি ঝর্ণা ও টেকনাফের দিকে।
তবে, দূরবর্তী পাথুরে সৈকতগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা এখনও দুর্বল বলে অভিযোগ রয়েছে।
পর্যটকদের প্রতিক্রিয়া
কুমিল্লা থেকে আসা সৈয়দা আইরিন আফরিন জেসি তার পরিবার নিয়ে কক্সবাজারের উৎসবমুখর পরিবেশ উপভোগ করছেন। তিনি স্থানীয় শুঁটকি, বার্মিজ পণ্য ও সমুদ্রের সৌন্দর্যকে ভ্রমণের প্রধান আকর্ষণ হিসেবে উল্লেখ করেন।
ঈদের এই ছুটিতে কক্সবাজারের পর্যটন অর্থনীতি জোরালো হলেও অবকাঠামো ও নিরাপত্তার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আরও সমন্বয় প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।