ব্যাংকক, ৪ এপ্রিল ২০২৫ : মিয়ানমার সরকার প্রথমবারের মতো ১ লাখ ৮০ হাজার রোহিঙ্গাকে ফেরত নেওয়ার জন্য প্রাথমিক তালিকা চূড়ান্ত করেছে। বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া ৮ লাখ রোহিঙ্গার মধ্যে এই তালিকা তৈরি করা হয়েছে। গত শুক্রবার ব্যাংককে বিমসটেক সম্মেলনের মাঝে মিয়ানমারের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইউ থান শিউ এ তথ্য বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর বৈদেশিক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান-কে জানান।
প্রধান তথ্যাবলি:
- ১.৮ লাখ রোহিঙ্গার তালিকা মিয়ানমার আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করেছে।
- ২০১৮-২০২০ সালে বাংলাদেশ ৬ ধাপে মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের মূল তালিকা হস্তান্তর করেছিল।
- আরও ৭০ হাজার রোহিঙ্গার বায়োমেট্রিক ডেটা যাচাই চলছে।
- অবশিষ্ট ৫.৫ লাখ রোহিঙ্গার তালিকা দ্রুত যাচাই করার আশ্বাস দিয়েছে মিয়ানমার।
কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ?
- এটি রোহিঙ্গা সংকটের ৭ বছর পর প্রথমবারের মতো মিয়ানমারের পক্ষ থেকে একটি নির্দিষ্ট প্রত্যাবর্তন পরিকল্পনা।
- আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের চাপ ও বাংলাদেশের কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় এই অগ্রগতি হয়েছে।
- তবে, রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব, নিরাপত্তা ও পুনর্বাসনের নিশ্চয়তা এখনও স্পষ্ট নয়।
বাংলাদেশের অবস্থান:
- ড. খলিলুর রহমান মিয়ানমারে সাম্প্রতিক ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য অতিরিক্ত মানবিক সহায়তা দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন।
- বাংলাদেশ টেকসই ও স্বেচ্ছামূলক প্রত্যাবর্তনের ওপর জোর দিচ্ছে।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া:
জাতিসংঘ ও ইউএনএইচসিআর এই অগ্রগতিকে স্বাগত জানালেও, রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবর্তনের জন্য মিয়ানমারের উপর নজরদারি বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে।
পরবর্তী পদক্ষেপ:
- মিয়ানমারের সাথে প্রত্যাবর্তন প্রক্রিয়া নিয়ে কারিগরি বৈঠক হবে।
- বাংলাদেশ অস্থায়ী আশ্রয় শিবিরগুলোর ব্যবস্থাপনা জোরদার করবে।
সূত্র: বাংলাদেশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, জাতিসংঘ, রয়টার্স।