ঢাকাশুক্রবার , ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
  • অন্যান্য
  1. অর্থনীতি
  2. আন্তর্জাতিক
  3. খেলাধুলা
  4. জাতীয়
  5. জীবনধারা
  6. বিজ্ঞান-প্রযুক্তি
  7. বিনোদন ভুবন
  8. বিবিধ
  9. ভিডিও নিউজ
  10. রাজধানী
  11. রাজনীতি
  12. শিক্ষা
  13. সর্বশেষ
  14. সারাবাংলা
  15. স্বাস্থ্য
আজকের সর্বশেষ সবখবর

সাবেক অডিট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ, নথি চেয়েছে দুদক

মাহমুদুল হাসান
অক্টোবর ১৩, ২০২৬ ৮:৪৯ অপরাহ্ণ
Link Copied!

ঢাকা, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬ : সরকারি দায়িত্ব পালনে ক্ষমতার অপব্যবহার, আর্থিক অনিয়ম এবং অবসরপ্রাপ্ত বিমানবাহিনীর সদস্যদের পেনশন-সংক্রান্ত মামলা নিষ্পত্তিতে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে বিসিএস (নিরীক্ষা ও হিসাব) ক্যাডারের কর্মকর্তা সোহেল আহমেদের বিরুদ্ধে। অভিযোগের বিষয়ে অনুসন্ধানের স্বার্থে তাঁর চাকরিসংক্রান্ত ও ব্যক্তিগত বিভিন্ন নথি চেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২৭ মে দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে বাংলাদেশ মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে একটি চিঠি পাঠানো হয়। চিঠিতে সোহেল আহমেদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ অনুসন্ধানের জন্য প্রয়োজনীয় রেকর্ডপত্র ও তথ্য সরবরাহের অনুরোধ করা হয়। চিঠিতে তাঁর চাকরিকালীন বিভিন্ন দায়িত্ব, সম্পদ এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে তথ্য চাওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের প্রশাসন ও সমন্বয় অনুবিভাগ থেকে ২০২৫ সালের ৭ সেপ্টেম্বর জারি করা একটি চিঠিতে সোহেল আহমেদের বিরুদ্ধে দাপ্তরিক ক্ষমতার অপব্যবহার, অবসরপ্রাপ্ত বিমানসেনাদের পেনশন ও অবসরভাতা-সংক্রান্ত মামলা নিষ্পত্তিতে অনিয়ম, সরকারি দায়িত্ব পালনে অসদাচরণ এবং প্রচলিত বিধিবিধানের পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগের উল্লেখ রয়েছে। চিঠিতে অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।

দুদকের চিঠিতে যেসব নথি চাওয়া হয়েছে

দুদকের চিঠিতে সোহেল আহমেদের চাকরিসংক্রান্ত তথ্য, মিশন অডিটে দায়িত্ব পালনের সময়কার প্রাসঙ্গিক নথি এবং তাঁর ব্যক্তিগত তথ্যসংবলিত কাগজপত্র চাওয়া হয়েছে। এসব নথির মধ্যে জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট, পারিবারিক তথ্য ও টিআইএন-সংক্রান্ত তথ্যের কথাও উল্লেখ রয়েছে।

দুদকের চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, অভিযোগের সুষ্ঠু অনুসন্ধানের স্বার্থে সংশ্লিষ্ট রেকর্ডপত্র ও তথ্য পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। তবে শুধু নথি তলব বা অনুসন্ধান শুরু হওয়া থেকে অভিযোগের সত্যতা কিংবা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।

আরও কিছু অভিযোগের দাবি

সোহেল আহমেদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মহলে আরও কিছু অভিযোগ উত্থাপনের দাবি করা হয়েছে। এর মধ্যে পূর্ত অডিট অধিদপ্তরে দায়িত্ব পালনকালে অডিট দলের কাছ থেকে অবৈধ অর্থ গ্রহণ, সরকারি দপ্তরের আসবাব ও বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ব্যক্তিগত প্রয়োজনে স্থানান্তর এবং বদলির পেছনে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে।

এ ছাড়া ২০১৭ সালে সিজিডিএফের নিয়োগপ্রক্রিয়ায় আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে চাকরি দেওয়ার অভিযোগও উত্থাপন করা হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য নথি, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য কিংবা তদন্তের চূড়ান্ত ফলাফল এই প্রতিবেদনের জন্য সরবরাহ করা হয়নি। ফলে অভিযোগগুলোর সত্যতা নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

ব্যক্তিগত জীবন ও পারিবারিক সম্পদ নিয়ে যেসব দাবি প্রচারিত হচ্ছে, সেগুলোর ক্ষেত্রেও নির্ভরযোগ্য প্রমাণ ছাড়া কোনো সিদ্ধান্তমূলক বক্তব্য দেওয়া সমীচীন নয়।

তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে প্রশ্ন

অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর তদন্তের অগ্রগতি, গৃহীত প্রশাসনিক ব্যবস্থা এবং দুদকের অনুসন্ধানের বর্তমান অবস্থা জানা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে অভিযোগের ভিত্তিতে কোনো বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে কি না, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বক্তব্য নেওয়া হয়েছে কি না এবং সরকারি সম্পদ ব্যবহারের অভিযোগের বিষয়ে কোনো নিরীক্ষা বা তদন্ত হয়েছে কি না, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জানতে চাওয়া প্রয়োজন।

এ বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়, দুদক এবং সংশ্লিষ্ট নিরীক্ষা কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে অভিযোগগুলোর প্রকৃত অবস্থা সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।