ঢাকাবুধবার , ৪ঠা নভেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
  • অন্যান্য
  1. অর্থনীতি
  2. আন্তর্জাতিক
  3. খেলাধুলা
  4. জাতীয়
  5. জীবনধারা
  6. বিজ্ঞান-প্রযুক্তি
  7. বিনোদন ভুবন
  8. বিবিধ
  9. ভিডিও নিউজ
  10. রাজধানী
  11. রাজনীতি
  12. শিক্ষা
  13. সর্বশেষ
  14. সারাবাংলা
  15. স্বাস্থ্য
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বাংলাদেশের গাড়ি শিল্পে নতুন দিগন্তের সূচনায় জাপানের টয়োটা

লাবনী হোসেন
নভেম্বর ৩, ২০২৬ ৩:০২ অপরাহ্ণ
Link Copied!

ঢাকা, ৩ নভেম্বর, ২০২৬: বাংলাদেশের গাড়ি শিল্পে এক নতুন দিগন্তের সূচনা করতে যাচ্ছে জাপানের বিশ্বখ্যাত গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টয়োটা। আগামী এক থেকে দুই বছরের মধ্যে বাংলাদেশে হাইব্রিড গাড়ি সংযোজন (Assembly) কারখানা স্থাপনের বিষয়টি সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করছে প্রতিষ্ঠানটি। এই মেগা উদ্যোগটি বাস্তবায়িত হলে দেশে রেকর্ড পরিমাণ বিদেশি বিনিয়োগ আসার পাশাপাশি উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার এবং স্থানীয় উৎপাদন সক্ষমতা বহুলাংশে বৃদ্ধি পাবে।

প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে টয়োটা রাজধানী ঢাকা এবং বন্দর নগরী চট্টগ্রামে দুটি অত্যাধুনিক থ্রি-এস (সেলস, সার্ভিস ও স্পেয়ার পার্টস) সেন্টার স্থাপনের পরিকল্পনা করেছে। এই দুটি কেন্দ্র নির্মাণে প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ৪ কোটি মার্কিন ডলার (প্রায় ৪৮০ কোটি টাকা) বিনিয়োগ করতে যাচ্ছে, যার নির্মাণকাজ চলতি বছরের নভেম্বর মাসেই শুরু হবে।

সরাসরি বাংলাদেশে টয়োটা: মিলবে বিশ্বমানের সেবা
বিনিয়োগ বিষয়ক সংস্থা ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ’ সূত্রে জানা গেছে, প্রস্তাবিত থ্রি-এস কেন্দ্র দুটিতে গাড়ি বিক্রি, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ, জটিল মেরামত এবং শতভাগ আসল যন্ত্রাংশ (Original Spare Parts) সরবরাহের সমন্বিত সেবা নিশ্চিত করা হবে। এই সেন্টারগুলো চালু হওয়ার মাধ্যমেই মূলত বাংলাদেশে টয়োটার সরাসরি প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হতে যাচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তা ও শুল্ক সুবিধা পাওয়া গেলে আগামী ১ থেকে ২ বছরের মধ্যে হাইব্রিড গাড়ি স্থানীয়ভাবে সংযোজনের কাজও পূর্ণ গতিতে এগিয়ে নেবে টয়োটা। এ লক্ষ্যে ইনভেস্ট বাংলাদেশ সব ধরনের নীতিগত ও কৌশলগত সহায়তা প্রদানের আশ্বাস দিয়েছে।

সাশ্রয়ী মূল্যে মিলবে হাইব্রিড গাড়ি
টয়োটার এই সম্ভাব্য বিনিয়োগের খবরকে অত্যন্ত ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন দেশের গাড়ির ক্রেতা ও ব্যবসায়ীরা। স্থানীয়ভাবে হাইব্রিড গাড়ি সংযোজন শুরু হলে উচ্চ আমদানিসংশ্লিষ্ট শুল্ক ও অন্যান্য ব্যয় এক ধাক্কায় অনেক কমে যাবে, যার সরাসরি সুফল পাবেন ক্রেতারা। ফলে পরিবেশবান্ধব হাইব্রিড গাড়ি সাধারণ ক্রেতাদের ক্রয়ক্ষমতার নাগালে চলে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ডিবিএইচ ফাইন্যান্স পিএলসির সহকারী ভাইস প্রেসিডেন্ট ও টয়োটা গাড়ির নিয়মিত ব্যবহারকারী মো. আবু ইউসুফ বলেন, “স্থানীয়ভাবে হাইব্রিড গাড়ি সংযোজন করা হলে আমদানিসংশ্লিষ্ট ব্যয় কমবে। এতে গাড়ি আরও সাশ্রয়ী হওয়ার পাশাপাশি আসল যন্ত্রাংশ ও পেশাদার বিক্রয়োত্তর সেবা পাওয়া সহজ হবে। ঢাকা ও চট্টগ্রামে প্রস্তাবিত দুটি থ্রি-এস সেন্টার চালু হলে টয়োটার ওপর ক্রেতাদের আস্থা আরও বহুগুণ বেড়ে যাবে।”

শিল্পখাতে বিপ্লব ও রপ্তানির বিশাল সম্ভাবনা
এফবিসিসিআইয়ের সাবেক পরিচালক ও এসএমএইচ গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন এই উদ্যোগের সুদূরপ্রসারী অর্থনৈতিক গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “টয়োটার এই বিনিয়োগ দেশের স্থানীয় উদ্যোক্তা, গাড়ি ব্যবসায়ী, যন্ত্রাংশ সরবরাহকারী এবং দক্ষ জনশক্তির জন্য এক বিশাল কর্মসংস্থানের বাজার সৃষ্টি করবে। প্রযুক্তি স্থানান্তর (Technology Transfer) ও দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে দেশে একটি আধুনিক গাড়ি শিল্প খাত গড়ে উঠবে, যা অন্যান্য বৈশ্বিক গাড়ি নির্মাতাদেরও বাংলাদেশে বিনিয়োগে দারুণভাবে উৎসাহিত করবে।”

তিনি আরও যোগ করেন, বাংলাদেশে সংযোজিত টয়োটার গাড়ি যদি আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানি করা সম্ভব হয়, তবে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার একটি অন্যতম আঞ্চলিক গাড়ি উৎপাদন কেন্দ্রে (Regional Automotive Hub) পরিণত হবে। এর ফলে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হবে, যা দেশের রিজার্ভকে শক্তিশালী করবে এবং বৈশ্বিক গাড়ি সরবরাহ ব্যবস্থায় (Global Supply Chain) বাংলাদেশের অবস্থানকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।

তবে এই বিশাল সম্ভাবনাকে পুরোপুরি কাজে লাগাতে হলে সরকারকে দীর্ঘমেয়াদি ও স্থিতিশীল নীতিসহায়তা, আকর্ষণীয় কর ও শুল্কসুবিধা, দক্ষ জনশক্তি তৈরি এবং সহযোগী যন্ত্রাংশ শিল্পের (Backward Linkage) দ্রুত বিকাশ নিশ্চিত করতে হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট অর্থনৈতিক ও শিল্প বিশেষজ্ঞরা।