ঢাকাশনিবার , ১০ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
  • অন্যান্য
  1. অর্থনীতি
  2. আন্তর্জাতিক
  3. খেলাধুলা
  4. জাতীয়
  5. জীবনধারা
  6. বিজ্ঞান-প্রযুক্তি
  7. বিনোদন ভুবন
  8. বিবিধ
  9. ভিডিও নিউজ
  10. রাজধানী
  11. রাজনীতি
  12. শিক্ষা
  13. সর্বশেষ
  14. সারাবাংলা
  15. স্বাস্থ্য
আজকের সর্বশেষ সবখবর

প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া আর নেই।

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট | ডেইলিনিউজ২৪বিডি.কম
ডিসেম্বর ৩০, ২০২৫ ৯:১৫ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

ঢাকা, ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫: বিএনপির চেয়ারপারসন এবং তিনবারের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া আর এই দুনিয়ায় নেই। আজ মঙ্গলবার সকাল ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে দীর্ঘদিনের অসুস্থতার পর তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তাঁর বয়স তখন ৮০ বছর।

সকাল ৯টায় হাসপাতালে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই দুঃসংবাদ নিশ্চিত করেন। কণ্ঠস্বর কম্পিত করে তিনি বলেন, “গণতন্ত্রের প্রতীক, জাতির অভিভাবক তাঁকে হারানোর কথা কল্পনাই করিনি। আমরা আশা করেছিলাম তিনি আগেরবারের মতোই সুস্থ হয়ে উঠবেন।”

শেষ মুহূর্তে তাঁর পাশে ছিলেন জ্যেষ্ঠ সন্তান ও দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সঙ্গে ছিলেন তারেকের স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান, কন্যা জাইমা রহমান, ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী শর্মিলা রহমান সিঁথি। পরিবারের অন্য সদস্যরা যেমন ভাই শামীম এসকান্দার, স্ত্রী এবং বোন সেলিনা ইসলামসহ সবাই উপস্থিত ছিলেন। বিএনপি নেতৃবৃন্দ এবং চিকিৎসা বোর্ডের ডাক্তাররাও সেখানে ছিলেন।

দীর্ঘ রোগযন্ত্রণা ও চিকিৎসার চেষ্টা
বেগম জিয়া লিভার সিরোসিস, রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস, ডায়াবেটিস ছাড়াও কিডনি, ফুসফুস, হৃদপিণ্ড এবং চোখের জটিল সমস্যায় ভুগছিলেন। নভেম্বর ২৩ তারিখে হার্ট ও ফুসফুসের সংক্রমণ দেখা দিয়ে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ডা. শাহাবুদ্দিনের নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের দল তাঁর চিকিৎসা পরিচালনা করেন। এই মাসে বিদেশে নেওয়ার পরিকল্পনা থাকলেও শারীরিক দুর্বলতায় তা সম্ভব হয়নি।

অনন্য রাজনৈতিক জীবন
‘আপসহীন নেত্রী’ নামে পরিচিত খালেদা জিয়া ১৯৯১-২০০৬ সালে তিনবার প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী এবং মুসলিম বিশ্বের দ্বিতীয় নির্বাচিত নারী নেত্রী হিসেবে তাঁর অবদান অসামান্য। ১৯৪৫ সালে দিনাজপুরে জন্মগ্রহণকারী তিনি স্বামী জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর ১৯৮২ সালে বিএনপিতে যোগ দেন এবং দ্রুত চেয়ারপারসন হন। কখনোই নির্বাচনে পরাজিত হননি – ১৯৯১ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত একাধিক আসনে জয়ী হয়েছেন।

তাঁর জীবন ছিল রাজনৈতিক ঝড়ঝাপটা, কারাবাস, নির্যাতন এবং ব্যক্তিগত ক্ষতির মিশ্রণ। স্বামী-সন্তান হারানোর শোক সত্ত্বেও দেশের জন্য অবিরাম সংগ্রাম করেছেন। তাঁর চলে যাওয়া বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক যুগের অবসান ঘটিয়েছে।