ঢাকা : সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে এবং প্রযুক্তির মাধ্যমে মোটরসাইকেলকে নজরদারির আওতায় আনতে ‘সড়ক পরিবহন বিধিমালা, ২০২২’ সংশোধন করেছে সরকার। সংশোধিত বিধিমালা অনুযায়ী, মোটরসাইকেলের কাঠামোগত ভিন্নতা বিবেচনা করে এখন থেকে প্রচলিত দুই লাইনের বিন্যাসের পাশাপাশি সামনের নম্বরপ্লেটে এক লাইনেও রেজিস্ট্রেশন নম্বর লেখার সুযোগ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে মোটরসাইকেলের নকশার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নম্বরপ্লেটের আকার ও বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য নির্ধারণের একক ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষকে (বিআরটিএ)।
সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের উপসচিব আল-আমীন মো. নূরুল ইসলামের স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই সংশোধিত নীতিমালা জারি করা হয়েছে, যা ইতিমধ্যেই বাংলাদেশ গেজেটের অতিরিক্ত সংখ্যায় প্রকাশিত এবং অবিলম্বে কার্যকর করা হয়েছে। সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮-এর ১২২ ধারার ক্ষমতাবলে বিধিমালার ৩৬ নম্বর বিধিতে এই পরিবর্তন আনা হয়েছে।
সংশোধিত বিধিমালার প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
- নম্বরপ্লেটে নতুন বিন্যাস: মোটরসাইকেলের সামনের নম্বরপ্লেটে প্রচলিত কাঠামোর বাইরে প্রয়োজন অনুযায়ী এক লাইনে জেলা/অঞ্চলের নাম, যানবাহনের শ্রেণি এবং রেজিস্ট্রেশন নম্বর লেখার বিকল্প সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এক লাইনে লেখার ক্ষেত্রে নির্ধারিত দৈর্ঘ্যের হাইফেন ব্যবহার করতে হবে।
- বিআরটিএ-এর বিশেষ ক্ষমতা: নম্বরপ্লেটের অক্ষরের উচ্চতা, জেলা বা অঞ্চলের নাম ও যানবাহনের শ্রেণির অক্ষরের আকার, নম্বরপ্লেটের উল্লম্ব অংশের ফাঁকা জায়গা এবং সংখ্যার মধ্যবর্তী দূরত্বের মতো সূক্ষ্ম বৈশিষ্ট্যগুলো নির্ধারণের দায়িত্ব বিআরটিএকে দেওয়া হয়েছে।
- রেট্রো-রিফ্লেক্টিভ প্লেটের ব্যবহার: নম্বরপ্লেটের দৃশ্যমানতা বাড়াতে এবং স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির মাধ্যমে দ্রুত শনাক্তকরণের সুবিধার জন্য বিপরীতমুখী ‘রেট্রো-রিফ্লেক্টিভ প্লেট’ ব্যবহারের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
- আইনি শব্দের পরিমার্জন: প্রজ্ঞাপনে বিধিমালার ৩৬ নম্বর বিধির উপবিধি (১০) থেকে ‘মোটরসাইকেল এবং’ শব্দ দুটি বিলুপ্ত করা হয়েছে, যা নম্বরপ্লেটের বিন্যাস নির্ধারণে কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগকে আরও স্পষ্ট করেছে।
সংশোধনের প্রেক্ষাপট ও গুরুত্ব:
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, বাজারে থাকা সব মডেলের মোটরসাইকেলের সামনের অংশের নকশা ও কাঠামো এক রকম নয়। ফলে অনেক মোটরসাইকেলে প্রচলিত আকারের বড় নম্বরপ্লেট স্থাপন করা কঠিন হয়ে দাঁড়াত। এই বাস্তবসম্মত সমস্যা দূর করতেই নিয়মে এই নমনীয়তা আনা হয়েছে।
সড়ক মন্ত্রণালয়ের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা সংবাদ সংস্থা বাসসকে জানান, রাজধানীসহ দেশজুড়ে মোটরসাইকেলের সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। সড়কে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে সিসিটিভি এবং স্বয়ংক্রিয় নম্বরপ্লেট শনাক্তকরণ প্রযুক্তির (ANPR) ব্যবহার বাড়ানো জরুরি হয়ে পড়েছে। মোটরসাইকেলকে পুরোপুরি ক্যামেরার আওতায় আনতেই এই বিধিগত জটিলতা দূর করা হলো।
বিধিমালা কার্যকর হওয়ায় এখন কোন ধরনের মোটরসাইকেলে ঠিক কী আকারের নম্বরপ্লেট বসবে এবং তা বাস্তবায়নের সুনির্দিষ্ট পদ্ধতি কেমন হবে, সে বিষয়ে বিআরটিএ খুব শীঘ্রই চূড়ান্ত নির্দেশনা জারি করবে।

