ঢাকাবুধবার , ৪ঠা নভেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
  • অন্যান্য
  1. অর্থনীতি
  2. আন্তর্জাতিক
  3. খেলাধুলা
  4. জাতীয়
  5. জীবনধারা
  6. বিজ্ঞান-প্রযুক্তি
  7. বিনোদন ভুবন
  8. বিবিধ
  9. ভিডিও নিউজ
  10. রাজধানী
  11. রাজনীতি
  12. শিক্ষা
  13. সর্বশেষ
  14. সারাবাংলা
  15. স্বাস্থ্য
আজকের সর্বশেষ সবখবর

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে

লাবনী হোসেন
নভেম্বর ৩, ২০২৬ ৬:১০ অপরাহ্ণ
Link Copied!

এ নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট পদে কোনো রদবদল ঘটবে না; কিন্তু কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ কোন দলের হাতে থাকবে তা নির্ধারিত হবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা : যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ভোটগ্রহণ আজ মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর, ২০২৬) আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। মার্কিন স্থানীয় সময় ভোর ৫টায় (বাংলাদেশ সময় বিকেল ৪টা) পূর্বাঞ্চলীয় অঙ্গরাজ্য ভার্মন্টের ভোটকেন্দ্রগুলো খুলে দেওয়ার মাধ্যমে দেশটিতে প্রথম ভোটগ্রহণ শুরু হয়।

পরবর্তীতে দেশটির সময়সূচি অনুযায়ী নিউ ইয়র্ক, নিউ জার্সি, ভার্জিনিয়া, কানেকটিকাট, কেনটাকি ও মেইনসহ পূর্ব উপকূলের অন্যান্য অঙ্গরাজ্যগুলোতেও ধাপে ধাপে কেন্দ্রগুলো উন্মুক্ত করা হচ্ছে।

২০২৬ মধ্যবর্তী নির্বাচনের মূল তথ্য:

আসন সংখ্যা: এই ভোটাভুটিতে মার্কিন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদের (House of Representatives) সবকটি (৪৩৫টি) আসন এবং উচ্চকক্ষ সিনেটের ৩৫টি আসনে প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর বাইরে ৩৯টি অঙ্গরাজ্য ও অঞ্চলে গভর্নর পদের জন্যও নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট: বর্তমানে কংগ্রেসের উভয় কক্ষেই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দল রিপাবলিকান পার্টির সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। এই নির্বাচনকে ট্রাম্প প্রশাসনের দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম দুই বছরের কাজের ওপর ভোটারদের একটি বড় মূল্যায়ন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

আগাম ভোট: মূল নির্বাচনের দিন ভোট শুরুর আগেই ডাকযোগে পাঠানো মেইল-ইন ব্যালট এবং সশরীরে আগাম ভোটিং (Early Voting) ব্যবস্থার মাধ্যমে দেশজুড়ে ৫ কোটি ৭০ লাখের বেশি ভোটার ইতিমধ্যে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন।

মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফল সম্ভাব্যতা

৩ নভেম্বর ২০২৬ তারিখে চলমান মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফল সম্ভাব্যতা এবং জনগণের প্রতিক্রিয়া নিয়ে বিভিন্ন জরিপ ও গণমাধ্যমের বরাতে একটি মিশ্র চিত্র সামনে এসেছে। এই নির্বাচনকে মূলত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম দুই বছরের কাজের ওপর একটি ‘গণভোট’ বা গণ-মূল্যায়ন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

নির্বাচনের ফল সম্ভাব্যতা

বিভিন্ন নির্বাচনী মডেল ও জনমত জরিপের সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক পার্টির ভালো করার সম্ভাবনা প্রবল। নিচে প্রধান প্রধান জরিপ ও পূর্বাভাস সংস্থার তথ্য তুলে ধরা হলো:

প্রতিনিধি পরিষদ : কংগ্রেসের নিম্নকক্ষের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে যাওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। জরিপ তথ্য সংগ্রাহক প্রতিষ্ঠান ফিফটি প্লাস ওয়ান (Fifty Plus One)-এর পূর্বাভাস অনুযায়ী ডেমোক্র্যাটদের হাউস জয়ের সম্ভাবনা প্রায় ৯৯%। অন্যদিকে ডিসিশন ডেস্ক এইচকিউ (DDHQ) ডেমোক্র্যাটদের জয়ের সম্ভাবনা ৮৪% এবং আসন সংখ্যা ২৪১টি হতে পারে বলে উল্লেখ করেছে।

সিনেট : উচ্চকক্ষে লড়াই কিছুটা হাড্ডাহাড্ডি হলেও ডেমোক্র্যাটরা এগিয়ে রয়েছে। সিলভার বুলেট (Silver Bulletin)-এর চূড়ান্ত নির্বাচনী মডেলে ডেমোক্র্যাটদের সিনেট জয়ের সম্ভাবনা জোরালো বলা হয়েছে, যেখানে টেক্সাস, ওহাইও ও মিশিগানের মতো গুরুত্বপূর্ণ ব্যাটেলগ্রাউন্ডে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা এগিয়ে আছেন। ডিসিশন ডেস্ক এইচকিউ-এর মডেল অনুযায়ী ডেমোক্র্যাটদের সিনেট নিয়ন্ত্রণের সম্ভাবনা ৬৫%।

ভবিষ্যদ্বাণী বনাম বাস্তবতা: বিশ্লেষকরা এবং রুটগার্স-এর সমীক্ষা সতর্ক করেছে যে, জনমত জরিপগুলো কেবল একটি নির্দিষ্ট সময়ের মানুষের মনোভাবের প্রতিফলন দেখায়, এটি চূড়ান্ত ফলাফল নয়। বিশেষ করে ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমলে অতীতেও বেশ কয়েকবার জরিপের হিসাবের বাইরে গিয়ে ফল আসার নজির রয়েছে।

জনগণের প্রতিক্রিয়া ও মনোভাব

ভোটারদের মধ্যে এবারের নির্বাচন নিয়ে ব্যাপক উৎসাহ এবং একই সঙ্গে তীব্র মেরুকরণ ও অসন্তোষ দেখা যাচ্ছে।

উচ্চ নির্বাচনী উদ্দীপনা : ভোটারদের মধ্যে ভোট দেওয়ার আগ্রহ অত্যন্ত বেশি। এনবিসি নিউজ-এর জরিপ অনুযায়ী ৭০% নিবন্ধিত ভোটার এই নির্বাচন নিয়ে সর্বোচ্চ মাত্রায় আগ্রহী। ইতিমধ্যে ৫ কোটিরও বেশি মানুষ আগাম ভোট (Early Voting) দিয়েছেন। এর মধ্যে ডেমোক্র্যাট সমর্থকদের মধ্যে ভোট দেওয়ার উদ্দীপনা ও অনুপ্রেরণা রিপাবলিকানদের তুলনায় বেশি দেখা গেছে।

প্রধানউদ্বেগসমূহ

অর্থনীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয়: পাহু রিসার্চ সেন্টার-এর জরিপ অনুযায়ী ৮৪% ভোটারের কাছে প্রধান ইস্যু অর্থনীতি ও ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয় (যেমন খাদ্য ও আবাসন খরচ বৃদ্ধি)।

স্বাস্থ্যসেবা ও অন্যান্য: ভোটারদের একটি বড় অংশ স্বাস্থ্যসেবার ব্যয় বৃদ্ধি (বিশেষ করে অবামাকেয়ারের প্রিমিয়াম বৃদ্ধি) নিয়ে চিন্তিত এবং এ ক্ষেত্রে তারা রিপাবলিকানদের চেয়ে ডেমোক্র্যাটদের ওপর বেশি আস্থা রাখছেন। এছাড়া ট্রাম্পের কঠোর অভিবাসন নীতি এবং ইরানের সাথে সামরিক উত্তেজনাও জনমনে বড় প্রভাব ফেলছে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় প্রভাব: জরিপগুলোতে দেখা গেছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তার পারদ অনেকটাই নিম্নমুখী (অনুমোদন হার প্রায় ৩০%)। ফলে ডেমোক্র্যাট ভোটাররা ট্রাম্পের একচ্ছত্র ক্ষমতাকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য ব্যতিব্যস্ত। অন্যদিকে ট্রাম্প সমর্থকরা মনে করছেন, দেশকে বাঁচাতে এবং দেশের সীমান্ত সুরক্ষিত রাখতে ট্রাম্পের হাত শক্তিশালী করা জরুরি, যার কারণে তারা রিপাবলিকান প্রার্থীদের ভোট দিচ্ছেন।

আজ মঙ্গলবার রাত (বাংলাদেশ সময় বুধবার সকাল) থেকে প্রাথমিক ফলাফল আসতে শুরু করবে, তবে কংগ্রেসের চূড়ান্ত নিয়ন্ত্রণ কার হাতে যাচ্ছে তা নিশ্চিত হতে কয়েক দিন সময় লেগে যেতে পারে।