চট্টগ্রাম, ৩১ মে, ২০২৬ : চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুর এলাকাকে সন্ত্রাস ও অপরাধমুক্ত করতে সরকারের দৃঢ় অবস্থানের কথা জানালেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। রোববার সরেজমিনে এলাকাটি ঘুরে দেখার পর আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি স্পষ্ট করে দেন যে, এই ভূখণ্ডে কোনো অপরাধী গোষ্ঠীর অভয়ারণ্য টিকে থাকতে দেওয়া হবে না।
পরিদর্শনে ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, চট্টগ্রামের সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, আইজিপি, বিজিবি মহাপরিচালক এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
মন্ত্রী বলেন, বিগত দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে রাজনীতিকে অপরাধের হাতিয়ার বানানোর যে অপসংস্কৃতি গড়ে উঠেছিল, জঙ্গল সলিমপুর তারই একটি প্রকট দৃষ্টান্ত। রাষ্ট্রের ভেতরে একটি সমান্তরাল অপরাধ-কাঠামো দাঁড় করানোর যে প্রচেষ্টা চলেছিল, সেটি আর অব্যাহত থাকতে দেওয়া হবে না।
বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরই চট্টগ্রামে বেপরোয়া সশস্ত্র চাঁদাবাজি ও ব্যবসায়ীদের বাড়িতে গুলিবর্ষণের মতো ঘটনা সামনে আসে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে গত ৯ মার্চ একটি বহুবাহিনী সমন্বিত যৌথ অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে সন্ত্রাসীদের গড়ে তোলা সিসিটিভি-নির্ভর নজরদারি ব্যবস্থা ও সমান্তরাল নিয়ন্ত্রণ কাঠামো ভেঙে দেওয়া সম্ভব হয়েছে। তবে আগাম তথ্য ফাঁস হওয়ায় অভিযানের পূর্ণ সাফল্য অর্জন করা যায়নি বলে স্বীকার করেন মন্ত্রী।
নির্মাণাধীন র্যাব ক্যাম্প বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়ার মতো রাষ্ট্রবিরোধী দুঃসাহসিক কাজের পেছনে কারা ছিল, তা উদঘাটনে কঠোর তদন্ত চলছে। মূল ইন্ধনদাতা ও ভূমিদস্যুদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া এগিয়ে চলেছে বলে জানান তিনি।
স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্বেগ দূর করতে মন্ত্রী জানান, নানা প্রতিকূলতায় এখানে আশ্রয় নেওয়া মানুষদের জোরপূর্বক সরানো হবে না। বরং তাদের টেকসই পুনর্বাসনের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট সরকারি পরিকল্পনা তৈরি করা হবে। উচ্ছেদ নিয়ে ছড়ানো গুজবে কান না দিয়ে সরাসরি প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে তিনি পরামর্শ দেন।
আধুনিক অবকাঠামো ও নিরাপত্তা বলয় গড়ার উদ্যোগ
এলাকার দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা নিশ্চিতে সলিমপুর ইউনিয়নকে সীতাকুণ্ড, ভাটিয়ারী-হাটহাজারী ও চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের সঙ্গে সংযুক্ত করে একটি আধুনিক সড়ক নেটওয়ার্ক গড়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ড্রোন জরিপ ও মানচিত্র বিশ্লেষণের ভিত্তিতে পুলিশ, বিজিবি ও র্যাবের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো স্থাপনের কাজও এগিয়ে চলছে। পাশাপাশি বায়েজিদ লিংক রোড সংলগ্ন খাস জমিতে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার স্থানান্তরের প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনের শেষে মন্ত্রী বেতুয়া ও চা-বাগান এলাকার অপরাধ নেটওয়ার্কও চিরতরে উচ্ছেদের ঘোষণা দেন এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় গণমাধ্যম ও সর্বস্তরের জনগণের সক্রিয় সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন।

