বিসিএস (নিরীক্ষা ও হিসাব) ক্যাডারের ২০তম ব্যাচের কর্মকর্তা এবং সাবেক সিনিয়র অর্থ নিয়ন্ত্রক (বিমান) ও পূর্ত অডিট অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক সোহেল আহমেদের বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতি, ঘুষ গ্রহণ, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে। সাম্প্রতিক সরকারি চিঠি ও বিভিন্ন সূত্রে পাওয়া নথিপত্র পর্যালোচনায় তাঁর বিরুদ্ধে গুরুতর সব অনিয়মের চিত্র সামনে এসেছে।
সরকারি চিঠি ও তদন্তের নথি :
অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রশাসন ও সমন্বয় অনুবিভাগ (প্রশাসন-২ শাখা) থেকে গত ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে জারি করা একটি চিঠিতে জানা যায়, বিমান বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সেনাদের থেকে উৎকোচ গ্রহণ, বিশেষ করে এলপিসি, অবসর ভাতা ও পেনশন সংক্রান্ত কেস নিষ্পত্তিতে অনিয়ম, সরকারি দায়িত্বে অসদাচরণ এবং প্রচলিত বিধি-বিধানের পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার বিষয়ে একটি রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার (NSI) দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাঁর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণে মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক (সিএজি) কার্যালয়কে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এর প্রধান কার্যালয় থেকেও বিগত সময়ে তাঁর অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে তদন্ত শুরু হয়। কমিশনের নথিপত্রে উল্লেখ রয়েছে, সোহেল আহমেদ পূর্ত অডিট অধিদপ্তরের মহাপরিচালক থাকাকালে অডিট টিমের নিকট থেকে ঘুষ গ্রহণ, সরকারি খরচে নিজ বাসার আসবাবপত্র ক্রয়, সরকারি গাড়ি ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার, অফিস ভবন মেরামতের নামে অর্থ আত্মসাৎ এবং জার্মানি ও শ্রীলঙ্কায় মিশন অডিটের মাধ্যমে দুর্নীতি করে নিজ ও পরিবারের সদস্যদের নামে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করেছেন।
সুনির্দিষ্ট অন্যান্য অভিযোগ :

সংশ্লিষ্ট সূত্র ও স্থানীয় পর্যায়ে প্রাপ্ত অভিযোগে সোহেল আহমেদের বিষয়ে আরও নানাবিধ চাঞ্চল্যকর অনিয়মের তথ্য উঠেছে:
১. অডিট টিম থেকে ঘুষ গ্রহণ: পূর্ত অডিটে থাকাকালে প্রতিটি অডিট দল থেকে মোটা অঙ্কের টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। ২. সরকারি সম্পত্তি আত্মসাৎ: অধিদপ্তর থেকে এসি, ফ্যান ও বিভিন্ন আসবাবপত্র সরিয়ে কুমিল্লার গ্রামের বাড়িতে পাঠানোর খবরও পাওয়া গেছে। ৩. নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ: ২০১৭ সালে সিজিডিএফ (CGDF) নিয়োগ প্রক্রিয়ায় প্রায় ২০ কোটি টাকার বিনিময়ে অনেকের চাকরি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে, যার মধ্যে তাঁর অন্তত ২৬ জন নিকট আত্মীয় যুক্ত রয়েছে বলে জানা যায়। ৪. অবৈধ সম্পদ ও স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি: বিভিন্ন স্থানে তাঁর বিলাসবহুল ফ্ল্যাট, একাধিক গাড়ি এবং কুমিল্লা শহর ও গ্রামে কোটি টাকার সম্পদের হিসাব পাওয়া গেছে। এছাড়া নারী ক্যালেংকারীর অভিযোগও আছে তার নামে।
প্রশাসনিক ব্যবস্থা ও বর্তমান অবস্থা :
বিভিন্ন সংস্থায় অভিযোগ ও তদন্ত কার্যক্রম চলা সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণে আরও গতি আনা প্রয়োজন। বর্তমানে অডিট ও প্রশাসনিক ক্ষেত্রে এ ধরনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ওঠা গুরুতর অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখতে জোর তদন্ত দাবি করছেন সচেতন নাগরিক সমাজ। এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত কর্মকর্তা সোহেল আহমেদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাৎক্ষণিকভাবে তাঁর প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

